/ Poetry

In loving memories of my father

I miss you baba,
I knew you were happy,
I knew you were always there,
I took it for granted
And now you left me without a hint!

I hold your memories so tight
My eyes gets blurry,
My voice gets choked.

I knew this day would come
I didn’t know it’d come so quickly!
The thoughts of not seeing you again
Makes my heart bleed so bad
Though I believe you’re at a better place
But how could you be better without me?
I was in heaven when I was with thee!

I know we’ll reunite, I’ll get another hug,
This suffocation will end, I’ll overcome
But this wound will never heal
Until I lay beside you.
I only pray you find peace in this eternal sleep.

mangsho-ruti

আমাদের সংস্কৃতিতে জন্মদিনে কেক খাওয়ার চল কবে কি করে ঢুকে পড়েছে তা আমার জানা নেই, তবে আমার মতে কারো জন্মদিনে সেই খাবারটাই খাওয়ানো উচিৎ যা তার সবচেয়ে পছন্দের। আমার বাবার সবচেয়ে প্রিয় খাবার ছিল চালের আটার রুটির সাথে গরুর মাংস। একদম ছোটবেলায় দেখতাম উনি খুব শখ করে গরুর মাংস কিনে আনতেন, এরপর সেই মাংস ধুয়ে উনি নিজেই রান্না করা শুরু করতেন। আর নিজের রান্নায় নিজেই এত মুগ্ধ হতেন যে, রান্না করতে করতেই অর্ধেক মাংস উনি নিজের পেটেই চালান করে দিতেন। এরপর আমি উনার পায়ের কাছে গিয়ে যখন বাঘের বাচ্চার মতন মুখটা হা করে বলতাম - আআআআআ ... তখন উনি সম্বিৎ ফিরে পেয়ে বুঝতেন যে খুব বেশি আর অবশিষ্ট নেই। তখন আমাকে খাইয়ে দিতেন অনেক মমতায়।

এরপর অনেক কাল পেরিয়ে যায়, আমি বড় হয়ে হইতবা একটু দূরত্ব তৈরি হয়। তবে কুরবানি ঈদের নামায পড়ার শেষে গরু কুরবানি দেখতে না গিয়ে আমরা দুই বাপ-পুতে বসে পড়তাম চালের আটার রুটি দিয়ে গরুর মাংস খেতে। দাদুর বাড়িতে আগে থেকেই এই মাংস কেনা থাকতো, কারণ কুরবানির মাংস তৈরি হতে অনেক দেরি। উনার থেকেই হয়তো এটা পেয়েছিলাম, খেতে বসলে আর হুশ থাকতো না। আমাদের তসলিমা ফুপু (আমরা ডাকতাম তসলি ফুপু) রুটি বানিয়ে কুল পেতেন না। একদিন প্রায় ১৬ টা রুটি শেষ করেও হা করে বললাম - আআআআআ!

দেশে থাকতে প্রতি বছর নিয়ম করে কুরবানির ঈদটা একসাথে কাটাতাম। একসাথে হেঁটে যেতাম নামায পড়তে, খুব শান্তি লাগতো উনার এইটুকু সান্নিধ্য পেয়ে। এরচেয়ে বেশি আমার কপালে ছিলোনা। গল্প করতে করতে সারারাত শেষ হয়ে ভোরের আযান পড়ে যেত। এত কথা যে জমে ছিল তা কখনোই বুঝতে পারতাম না। এতো কথার ভিড়ে কোনোদিন বলা হয়নি যে আমি উনাকে কতটা ভালোবাসি। উনিও কোনোদিন মুখ ফুটে বলেননি। কিন্তু কিছু কথা কখনো বলে দেওয়া লাগে না, এগুলো শুধুই অনুভব করতে হয়। তখন কি জানতাম যে এই ছোট ছোট আর খুব সাধারণ স্মৃতি গুলো এতো গভীর ভাবে মনে গেঁথে থাকবে?!

আমরা সবাই যেকোনো মুহূর্তে চলে যেতে পারি, আমাদের আশেপাশের যেকোনো মানুষই হয়তো যাওয়ার আগে বলেও যেতে পারবে না। যতটা পারেন, এই মুহূর্ত গুলোকে মনের খাঁচায় বন্দি করে রাখবেন। কখনো যেন আফসোস না হয়। আমরা কয়দিন বাঁচলাম তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল, কি করে বাঁচলাম। আজ যদি আমার বা আমার প্রিয়জনের শেষদিন হয়, তাহলে এই দিনটিকে আমরা কি করে আরও সুন্দর করে তুলতে পারি? সময় চলে গেলে মনে হয়, জীবনের সব কিছুর বিনিময়ে হলেও যদি আরেকটি দিন, আরেকটি ক্ষণ তার সাথে কাটাতে পারতাম! কিন্তু আমাদের জীবনটা ডিজাইন করা হয়েছে এমন করে, একজন কে জায়গা করে দিতে অন্যজনকে জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। এরপরও পৃথিবী তার নিজ অক্ষেই চলতে থাকে।

যাহোক, লেখাটি এমন গুমোট হোক তা আমি চাইনি। তবে মৃত্যু এই জগতের সবচেয়ে বড় সত্য, যা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই।

টরেন্টো তে বসে গরুর মাংস পাওয়া গেলেও চালের আটার রুটি পাওয়া এতোটা সহজ ছিলোনা। কিন্তু ইচ্ছে থাকলে সব সম্ভব। আমিতো আর ভালো রাঁধুনি নই, দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানো। তারপড়ও বাবার জন্মদিন উপলক্ষে কেকের বদলে উনার প্রিয় খাবার খেয়ে উনার স্মৃতিচারণ করলাম। হয়তো উনার উত্তরসরি আমার সাথে বসে কিছু বিশেষ দিনে এই খাবার খাবে, এই অতি সাধারণ একটি চলের মাঝেই বেঁচে থাকবেন তিনি, আরও কিছু প্রজন্ম।
আল্লাহ সকল বাবা মা কে ভালো রাখুন আর সন্তান হিসেবে উনাদের হক আদায় করবার তৌফিক দিন, আমীন।

Shopnil Mahmud

Shopnil Mahmud

A software engineer with avid interest on any form of arts and philosophy. Likes to write codes for a living and poetry for the soul. Currently residing in Toronto, originally from Bangladesh.

Read More